কোটা প্রথা শিক্ষিত মেধাবী যুবশক্তির জন্য অভিশাপ না আশীর্বাদঃ
Posted in Barua culture, Barua social Problem, Barua tradition![]() |
Written by এস. নয়ন |
সময় এসেছে চাকরি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাববার , কোটা পদ্ধতি নামক শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে এই বৈষম্য সংস্কার করে দেশের বৃহত্তর মেধাবী শিক্ষিত যুব সমাজকে বৃহত পরিসরে মুল্যায়ন করার। বাংলাদেশে সরকারী চাকরি ক্ষেত্রে বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত পদ বাদ দিলে শতকরা মাত্র ৪৫ ভাগ পদ বাকি থাকে আমাদের মত কোন প্রকার কোটা বঞ্চিত ছাত্রদের জন্য । এই ৪৫ ভাগ পদেই চলে দেশের বেশিরভাগ মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের তাদের মেধার পরীক্ষা দিয়ে চাকরি ছিনিয়ে নেবার এক দুঃষহ যুদ্ধ । যেই যুদ্ধে বারবার ব্যার্থ হয়ে অনেক মেধাবী মুখ জীবনের প্রতি অতিষ্ট হয়ে শুধু জীবিকা অর্জনের জন্য খুজে নিচ্ছে বিভিন্ন অন্যায় পন্থা । আবার কেউ কেউ চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছেন । অপরদিকে বিভিন্ন কোটায় আবেদন করার সুবর্ন সুযোগ বেশিরভাগ মেধাবী ছাত্র/ছাত্রিদেরই হয়না বলে কোটার সুযোগ নিয়ে তুলনামুলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরি প্রার্থিরা অতি সহজেই চাকরি পেয়ে যায় আর এর ফলে আমাদের প্রশাসন বিভাগে কম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থিরা সুযোগ পাওয়ায় প্রশাসন পরিচালনার কাঠামো হয়ে পড়ছে দিনকে দিন দুর্বল । তাই এ নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নানাবিধ জটিলতা । তাই সরকারের কাছে আমাদের করজোড় নিবেদন দয়া করে কোটা প্রথা বিলুপ্তি করুন অথবা তা যদি সম্ভব না হয় তাহলে কোটার পরিধি কমিয়ে এনে মেধাবীদের সরকারী চাকরি ক্ষেত্রে ঢুকার সুযোগ দিন । দেশের মেধাবী শিক্ষিত যুব সমাজ আজ এই কোটা প্রথা নামক এক অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন ।
মেধাবীদের অবমুল্যায়ন সরকারি চাকরির অন্তরায় কোটা প্রথাঃ
সরকারি ক্যাডার সার্ভিসে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বিসিএসে উত্তীর্ণদের ৫৬ ভাগ নিয়োগ পাচ্ছেন কোটা পদ্ধতিতে। ৪৪ ভাগ নিয়োগ হয় মেধার ভিত্তিতে। ফলে সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশির ভাগ নিয়োগই পাচ্ছে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা।ব্যবস্থাটির প্রতিকারে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিয়োগপ্রার্থীরা আন্দোলন করে চলছে। কিন্তু কোনো সুফল পায়নি তারা। বরং সর্বশেষ ৩৪তম বিসিএসে কয়েক ধাপ এগিয়ে বাছাই পর্বেই কোটা আরোপ করা হয়; যা বিসিএসের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আগে এটা লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা শেষে চূড়ান্ত ফল প্রণয়নকালে আরোপ করা হতো।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষিত-বেকার চাকরিপ্রার্থীদের মাঝে। ধারাবাহিকভাবে পরপর তারা বিক্ষোভ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সরকারি চাকরি এখন কোটার ফাঁদে পড়েছে। আর এর ফলে বাদ পড়তে হচ্ছে মেধাবী অনেককে। এ থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা তাগিদ দিয়েছেন। এমনকি নিয়োগকারী সুপারিশ প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) বিভিন্ন সময় বিশেষ করে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এক প্রকার নিয়মিতই কোটা সরলীকরণে তাগিদ দিয়ে আসছে। কিন্তু এক্ষেত্রে ২০০৮ সালে একবার কোটা সমন্বয়ের উদ্যোগ ছাড়া দৃশ্যমান আর কিছু দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মেধার প্রতিযোগিতায় এভাবে কোটা আরোপ করে মূলত উত্তর প্রজন্মকে স্পষ্ট দুভাগে ভাগ করে দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে প্রশাসনও মেধাশূন্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে পিএসসি এই পদ্ধতিকে সরলীকরণের তাগিদ দিয়ে বলেছে, এটি অত্যন্ত জটিল, দুরূহ ও সময় সাপেক্ষ। শতভাগ নিখুঁতভাবে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন এর মাধ্যমে প্রায় অসম্ভব।
বর্তমানে দেশে ৫ ধরনের কোটা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ ভাগ কোটা রাখা হয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য। প্রতিবন্ধী এক ভাগ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও তাদের নাতি-নাতনিদের জন্য ৩০ ভাগ, নারী ও জেলা কোটা ১০ ভাগ করে। সব মিলিয়ে কোটার জন্য বরাদ্দ ৫৬ ভাগ। সংশ্লিষ্টরা জানান, এর ফলে যারা কোনো কোটায় পড়েন না, এককথায় মেধাবীদের জন্য রয়েছে বাকি ৪৪ ভাগ।
পিএসসি চেয়ারম্যান এটি আহমেদুল হক চৌধুরী বলেন, কোটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। তাদের হাতে বিসিএসের ফল পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি রয়েছে। এটি তারা করবেন।
তবে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান বলেছেন, অধিকাংশ কোটাই অসাংবিধানিক ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার করা জরুরি। কেননা যখন কোটা ব্যবস্থার চালু হয় তখন দেশের মোট জেলা ছিল ১৯টি। বর্তমানে বাংলাদেশের জেলা ৬৪টি। তিনি বলেন, দেশে বহু ধরনের কোটা চালু আছে। কিন্তু বিশ্বের কোথাও কোটা ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে কোটা ব্যবস্থা চালু থাকলেও এর কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। সুতরাং কোটা ব্যবস্থাকে বাদ দেয়া দরকার। যদিও এ কাজ করতে হলে সময় লাগবে বলে তিনি মনে করেন। মেধা কোটা ৫০ ভাগের কম হওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।
আকবর আলি খান বলেন, কোনো কোটাই চিরদিন থাকতে পারে না। প্রত্যেক কোটার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া উচিত। দেশে যখন ১৭ জেলা ছিল তখন চালু হয় জেলা কোটা। পরে ১৭ জেলা ভেঙে ৬৪টি করা হলেও সেই কোটাই রয়ে গেছে। অন্যদিকে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে উপজাতি ও প্রতিবন্ধী কোটা সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, সরকারি চাকরিতে ২৫৭ রকমের কোটা প্রচলিত আছে।
পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, তিনি যখন পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন তখন মুক্তিযোদ্ধার কোটা উপযুক্ত প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা যাচ্ছিল না। মুক্তিযোদ্ধাও কম পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি সরকারকে অবহিত করলে তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের ভেতর থেকে পূরণের পরামর্শ দেন। তখন পিএসসি থেকে বলা হয়েছিল, এতে উত্তর প্রজন্মে স্পষ্ট দ্বিধাবিভক্তি তৈরি হবে। আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরাও বঞ্চিত হবে- যেহেতু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার অনেকের সনদ নেই এবং অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছে। তিনি বলেন, মেধার স্বীকৃতি বড় স্বীকৃতি। এর বঞ্চনা চিন্তার খোরাক জোগায়।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে ২০১১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রায় প্রতিটিতে পিএসসি বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কারের সুপারিশ করেছে। সর্বশেষ প্রতিবেদনে তারা বলেছে, বর্তমানের কোটা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রয়োগ অত্যন্ত জটিল, দুরূহ ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। প্রচলিত কোটা পদ্ধতির জটিলতার কারণে উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন শতভাগ নিখুঁতভাবে সম্পাদন করা প্রায় অসম্ভব। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়নের জন্য বর্তমানে প্রচলিত কোটা পদ্ধতির সরলীকরণ অপরিহার্য। অন্যথায় কোটা প্রয়োগ জটিলতা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
প্রসঙ্গত ১৯৭৭ সালে তৎকালীন পে-সার্ভিস কমিশনের একজন সদস্য বাদে সবাই সরকারি নিয়োগে কোটা ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। তখন কোটার পক্ষে অবস্থা নেয়া এমএম জামান প্রচলিত কোটাগুলো প্রথম ১০ বছর বহাল রেখে ১৯৮৭ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরে ধীরে ধীরে কমিয়ে দশম বছরে তা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন।
কোটা নিয়ে সংবিধান কি বলেঃ
এদিকে বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ (১) ধারায় বলা আছে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে। এরপর ২ ধারায় বলা আছে- কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না। তবে নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে তাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করার কথা সংবিধানের এ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে।৩৪তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারের ৪৪২টি পদসহ মোট দুই হাজার ৫২টি পদে নিয়োগ দিতে গত ৭ ফেব্র“য়ারি বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। দুই লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ জন প্রার্থী এই পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। গত ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এক লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। সোমবার এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় এবং মোট ১২ হাজার ৩৩ জন উত্তীর্ণ হন।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে পড়ে। জানা গেছে, নজিরবিহীনভাবে এই বাছাই পর্বেই কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
আমার মতামত কোটাপ্রথা সম্পুর্ন বিলোপ করা নয় সংস্কার করে মেধাবীদের মুল্যায়ন করা । কারন মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজী না রাখলে দেশ স্বাধীন হতোনা, দেশ স্বাধীন না হলে কিন্তু ১০% আসন থাকত বাংলাভাষির জন্য আর ৯০% থাকত শাসকদের ।
NB:- আমার অনেক বন্ধু যাদের কোটা আছে তারা হয়তো আমার কথায় দুঃখ পাবেন কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ সামগ্রীক উন্নয়নে মেধাবীদের অংশগ্রহন নিশ্চিত না হলে সবাইকে আমরন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দারস্থ হতে হবে শোষনকারী উন্নত দেশ সমূহের কাছে ????????????
তথ্য সুত্রঃ ১. বিভিন্ন মিডিয়াকে দেয়া বিশিষ্টজনের সাক্ষাতকার
২. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের গুরত্বপুর্ণ অংশ



0 comments:
Post a Comment