Sunday, December 1, 2013

0

আলোর মিছিল চাই- চাই আলোকিত মানুষ

Posted in , , , , , ,

Author: এস. নয়ন

নিজের নদী সবার থাকে কেউ চায় সেই নদীতে ভেসে যেতে, কেউ চায় স্রোতের টানে ভেসে আসা খরকুটোকে সম্বল করে নতুন গতি বেছে নিতে চিরায়ত গণ্ডির বাইরে গিয়ে নতুন ধারাকে অবলম্বন করাটা অনেকেরই কাছেই অসম্ভব আর সেই না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই শুরু হয় নানা রকমের আফসোস আর ভাবে আমার দেশ কেনো এমন নেই, কেনো ওমন হলোনা! অথচ জীবনকে নতুন গতি দেয়ার, নিজের মতো করে চালানোর যে আলোকিত পথ সবাই খোঁজে, তা কিন্তু ছিল চোখের সামনে
Associate with the Fully Enlightened one, Light shall reach you.
Associate with the Fully Enlightened one, Light shall reach you. 
ছিলেন, আছেন আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আর ইন্দিরা রোডের ছোট্ট একটি কামড়া থেকে আজ বাংলা মোটরের আকাশ ছোয়া বাড়িতে যে স্বপ্নের কারখানা, তার নাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র


বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র নিয়ে লেখা শুরু করা যায়, শেষ করা মুশকিল আজ যারা আজকালকার সিনেমা নিজের মতো করে বাঁচার স্বপ্নকে হাতড়ে বেড়ায়, সেই স্বপ্নকে ১৯৮৪ সাল থেকে বাস্তব করেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এক একজন সভ্য বিশেষ করে তারা, যারা কলেজ কর্মসূচি (ঢাকা মহানগরী)-এর সভ্য ছিলেনযারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত করেন, তারা একনামে চিনেন, “জাভিক কর্মসূচি" নামে স্কুলের লাইব্রেরিতে বিসাকের বই পড়া উপভোগ করতো, তাদেরই একাংশ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে সোজা চলে আসতো বাংলামটর সেই ১৪ কাজী নজরুল ইসলাম এভ্যিনিউ সামনে ছোট্ট লনআর গেট দিয়ে ঢুকতেই সুরঞ্জনা অতঃপর রেজিস্ট্রেশন এবং যাত্রা শুরু কেন্দ্রবেলার


১৯৮৪ থেকে ২০০৯ সাল সায়ীদ স্যারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে জাভিকের কলেজ কর্মসূচির সভ্যসংখ্যা প্রায় দশ হাজার এই দশ হাজার সভ্যের মাঝে যারা কেন্দ্রবেলা উপভোগ করেছেন, তারা মনে প্রাণে স্বীকার করতে বাধ্য, এই কেন্দ্র সেই সকল আলোকিত মানুষকে দিয়েছে নিজের মতো করে বাঁচার সাহসতাই আজ কেন্দ্রের আলোকিত মানুষের অনেকেই ডাক্তার হয়েও সেরা বিতার্কিক, প্রকৌশলি হয়েও নাট্য কর্মী, কর্পোরেট হয়েও চারুশিল্পপ্রেমি সামাজিক অসামাজিকতার এই অস্থির সময়ে আজো "কেন্দ্রের সভ্য" এই পরিচয়টি দুরত্ব মিটিয়ে দেয় বয়সের"আপনি" পরিচয়টি দূর হয়ে যায় "তুমি" বা কখনো কখনো "তুই" বলে ডাকার আন্তরিকতায়
আজ 'বিশ্বায়নের চাপ'- পিষ্ট মানবজাতি অবিরাম দৌঁড়াতে বাধ্য তারপরও ব্যস্ততার মাঝে কিছু আলোকিত মানুষ আবার এক হতে চায় প্রাণের টানে বড়দের কাছে আশ্রয়, ছোটদের হাত ধরে নিয়ে চলা আর নিজের বন্ধুদের সাথে আবার সেই আলোর বন্ধন তৈরিতে হাতছানি দিচ্ছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র কি হবে, যদি একটি ছুটির দিন উৎসর্গ করা হয় নিজের জন্য! কি ক্ষতি যদি একদিন ব্যস্ততা ভুলে গেলে! কি ক্ষতি অন্তত একটি দিন নিজের মতো করে বাঁচালে, না হয় "ইডিয়ট" হয়েই!
যদি আবার আলোকিত মানুষেরা এক হয় শুরু করে আলোর আন্দোলন তাহলে ক্ষতি কি!!
দশ হাজার হয়তো নয় অন্তত পাঁচ হাজার আলোকিত মানুষের মিছিল চাই

বি.দ্রঃ Articleটি লিখার ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ঢাকায় অবস্থানরত আরেক আলোর পথযাত্রী আমার বন্ধু রূম্পা তার কাছে কৃতজ্ঞ

0 comments: